
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি \
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থেকে কক্সবাজারের ঈদগাহ থানায় আর.এম.এম. ব্রিকস নামীয় ইট ভাটায় কাজ করতে যাওয়া দুই নারীসহ ২০ শ্রমিককে বন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক সর্দার মুনছুর আলী ও বাবু অপর ৩০ জনকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় এসব শ্রমিককে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের স্বজনদের। ঈদগাহ থানার ভুমুরিয়া কোনা এলাকার একটি বদ্ধ কক্ষে ইট ভাটা মালিক বাবুল আহম্মেদ ও তার লোকজন শ্রমিকদের বন্দি করে রেখেছে বলে দাবি তাদের।
আটক শ্রমিকরা হলো মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ রেজাউল, মোঃ ইসমাঈল, আলমগীর হোসেন, তরিকুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, মোঃ আব্দুর রহিম, মোঃ আনিছুর রহমান, মোঃ আবু সালাম, আরিফুল ইসলাম, ইকবল হোসেন, আশিকুর রহমান সম্রাট, মোঃ আঃ রউফ, আব্দুর রহমান, মোঃ ইয়াছিন, মোঃ মফিজুল, মোঃ আরিফুল ইসলাম, মোঃ হুসাইন, মোছাঃ মর্জিনা খাতুন ও মোছাঃ রোজিনা খাতুন। তারা সকলে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বন্দি শ্রমিক কামাল হোসেনের ভাই জালাল হোসের ভাষ্য প্রায় ৫৫/৬০ জন শ্রমিক নিয়ে সর্দার বাবু ও মোঃ মুনছুর আলী আর,এম.এম. ব্রিকস ইট ভাটায় কাজ করতে যায়। দুই মাস কাজ করার পর টাকা পয়সার বিষয় নিয়ে মালিকের সাথে ঝামেলা হওয়ায় সর্দাররা বাড়ী চলে যায়। এসময় মাটি খারাপ হওয়ার কথা বলে আরও ৩০/৩৫ জন শ্রমিক পালিয়ে চলে যায়। একপর্যায়ে অবশিষ্ট ২০ শ্রমিককে মালিক ও তার লোকজন জোর পূর্বক ভাটায় আটকে রেখে কাজ করতে বাধ্য করে। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাক জনবল না থাকায় তারা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ঈদগাহ থানার ভুমুরিয়া কোনা এলাকার একটি বদ্ধ কক্ষে এসব শ্রমিককে বন্দি
করে রাখা হয়েছে। তাদের ঠিকমত খাবার সরবরাহ না করার পাশাপাশি নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কারনে অকারনে বন্দি শ্রমিকদের মারপিট করা হচ্ছে- উল্লেখ করে অব্দুর রউফের স্বজনরা জানান দুই সর্দার এলাকায় ফিরছে না। এদিকে দিনের পর দিন বন্দি থাকায় শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সর্দাররা টাকা নিয়ে পালালেও তাদের চেক ও ষ্ট্রাম্প দিয়ে মামলা করার সুযোগ রয়েছে। অথচ নিরীহ শ্রমিকদের বন্দি রেখে হয়রানী করছে ভাটা মালিক।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য আর.এম.এম. ব্রিকস এর মালিক মোঃ বাবুল আহম্মেদের (০১৭৭৮-৭৭০০৩৮) মোবাইলে বার বার কল করা সত্তে¡ও তিনি রিসিভ করেননি। #
ছবি ঃ ভুমুরিয়া কোনা এলাকার আবদ্ধ কক্ষে আটক শ্রমিকরা।
আপনার মতামত লিখুন :